Call: 0175-801-5553

আমরা সাধারণত ৬ ধরনের কাঠ দরজা ও চৌকাঠের ক্ষেত্রে ব্যবহার করি। যেমনঃ বার্মাটিক, চিটাগাং টিক, চিটাগাং শিলকড়ই, চিটাগাং গামারি, যশোর মেহগনি।  

আমরা চৌকাঠের জন্য সাধারণত বার্মাটিক, চিটাগাং টিক, চিটাগাং শিলকড়ই, টিকচ্যাম্বল ও যশোর মেহগনি কাঠ ব্যবহার করি।

পাল্লার জন্য আমরা সাধারণত বার্মাটিক, চিটাগাং টিক, চিটাগাং গামারি ও যশোর মেহগনি কাঠ ব্যবহার করি।

আমরা সাধারণত চৌকাঠের থিকনেসের ক্ষেত্রে বলে থাকি (” X আড়াই”) এবং (১১” X আড়াই”) থিকনেস। আসলে তা নয়। সিজনিং করলে কাঠের থিকনেছ কিছুটা কমে যায়, ফিনিশিং এ আর একটু কমে এবং এর পর আমরা শেষে পাই (  ও ২ ”) 

 (১০  ” X ”) সাইজের ক্ষেত্রে মেইন চৌকাঠ সাধারণত ৩  ফুট চওড়া এবং ৭ ফুট উচ্চতা, বেড রুমের জন্য ৩ ফুট চওড়া ও ৭ ফুট উচ্চতা, বারান্দা এবং বাথরুমের জন্য আড়াই ফুট চওরা ও ৭ ফুট উচ্চতার হয়ে থাকে। আরো একটি সাইজ আছে , চওড়া ৪০এবং উচ্চতা ৭ ফুট। ছোট বাসার ক্ষেত্রে এটি মেইন গেট হিসেবেও বড় বাসার ক্ষেত্রে বেডরুমের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর পরেও মেইন গেটের ক্ষেত্রে অনেক বড়-ছোট চৌকাঠ ব্যবহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। 

দরজার থিকনেস সাধারণত (পাকা)দেড়হয়ে থাকে। দরজার চওড়া চৌকাঠের মাপের চেয়ে ৩কম হয়। কাজেই চৌকাঠের চওড়া যদি ৪২হয় তবে সেই চৌকাঠের জন্য পাল্লার মাপ হবে সাড়ে ৩ দরজার উচ্চতা সাধারণত ৮২হয়। টাইলস লাগানোর কম বেশির কারণে  দরজার উচ্চতা একটু কম লাগতে পারে। দরজার উচ্চতা ৬০”, ৬১অথবা ৬২ও লাগতে পারে। 

একইভাবে ৩৬চওড়া চৌকাঠের জন্য পাল্লার সাইজ হবে ( ” X ৮২”) আবার ৩০চৌকাঠের ক্ষেত্রে দরজার সাইজ হবে সাড়ে ২৬চওরা ও ৮২লম্বা। আমাদের দরজার সবচেয়ে নিচের কাঠটি, যাকে আমরা (Bottom Rail) বলি, সাধারণত ৮চওড়া হয়। যদি দরজা একটু লম্বা হয় এবং কাটার প্রয়োজন হয়, সেখান থেকে আমরা প্রয়োজনে ২পর্যন্ত কেটে দিতে পারি। এতে দরজা দুর্বল বা সৌন্দর্য নষ্ট হবে না। Bottom Rail টি ৮চওড়া দেয়া হয় মূলত কেটে Adjust করার জন্যই।

যেগুলো কাঠ আমরা দরজা ও চৌকাঠের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকি, প্রতিটি কাঠ এলাকার ভিন্নতার কারণে, বিভিন্ন বয়সে মেচিউরিটি প্রাপ্ত হয়। নির্দিষ্ট একটা বয়স পর কাঠের ফাইবারগুলো পরিপক্বতা লাভ করে এবং সিজন করতে গেলে সংকুচিত কম হয় ও বাঁকা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসে। সিজন করার পরেও তুলনামূলকভাবে ওজন অধিক হয় ও বেশিদিন টেকসই হয়। এসব গুণাবলিসম্পন্ন কাঠকে মেচিউর কাঠ বলা হয়। যেমনঃ বার্মাটিক কাঠের মেচিউর হতে সময় লাগে ৫০-৬০ বছর বয়স। আবার যশোরের মেহগনি কাঠের মেচিউর হতে সময় লাগে ২৫ বছর বয়স। অন্যান্য অনেক এলাকায় মেহগনি কাঠ ৩০-৩৫ বছর বয়সেও মেচিউরিটি আসে না। 

মেচিউর কাঠ সংকোচন-সম্প্রসারন অনেক কম হয়। চেড়াই করার পর ১৪% moisture এ সিজন করার পর সামান্য সংকুচিত হয়। Matured Annual Ring এর বিপরীত সাইডে সংকোচন কম হয়। তাই বাঁকা হয় অনেক কম, পোকা ধরার প্রবণতা কম থাকে। কাঠের ওজন তুলনামূলক বেশি হয়, ফাইবার সুন্দর হয় এবং কাঠের রং গাড় ও সুন্দর হয়। 

একটি গাছ বড় হবার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর একটি করে Ring যুক্ত হতে থাকে। যাকে Annual Ring বলে। প্রতিবছর যে রিংটি তৈরি হয় সেটি বাইরের লেয়ারে সংযোজন হয়। পরবর্তীরে বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই রিংটি সাড়ে পরিণত হয়। সাড়ে পরিণত হবার পূর্বে রিং এর রং সাধারণত হালকা ও নরম থাকে, সিজন করলে সংকোচন অনেক বেশি হয়  এবং পোকা ধরার প্রবণতা থাকে। অনেক কাঠে পল ও সাড় আলাদা করা কঠিন। যেমনঃ গামারি কাঠ। গামারি কাঠের ক্ষেত্রে সাড়েও যেমন পোকা ধরে না, পলেও পোকা ধরে না। আবার চিটাগাং সেগুনেও পলেও সাধারণত সহসা পোকা ধরে না। যশোর মেহগনির মেচিউর কাঠের পলেও সাধারণত পোকা ধরে না। 

কাঠ চেড়াই করার পর কাঠে ৬০%-৯০% moisture থাকে। এয়ার ড্রাই করার পর যখন কাঠের moisture ৩০% এ নেমে আসে, তখন আমরা একটি মেশিনে কাঠগুলো ঢুকাই। মেশিনটি একটি রুম যার ভেতরে কাঠগুলো স্টিক এর মাধ্যমে সাজানো হয় এবং তার ভেতরে উচ্চ তাপমাত্রা প্রদান করা হয় এবং কাঠ থেকে moisture বাষ্প হয়ে কাঠ থেকে বের হয়ে আসে। ১৪% এর নিচে Moisture content নেমে আসলে কাঠটি সঠিকভাবে সিজন হয়ে থাকে। এখন কাঠটি দরজা ও চৌকাঠ তৈরি করার উপযোগী। এভাবে কাঠ সিজন করলে দরজা বাঁকা, ফাঁকা ও পোকা ধরার মতো সমস্যাগুলি হয় না।

কাঠে Moisture ১৪% এর নিচে থাকা উচিত। বিভিন্ন কাঠের ক্ষেত্রে ২%-% কম বা বেশি হতে পারে। আমাদের সিজন করা কাঠ সাধারণত (-১০)% Moisture থাকে। 

যে পরিমান moisture কাঠে থাকলে কাঠের সংকোচন-প্রসারন সবচেয়ে কম হয়, তাকেই Standard Moisture Content বলে। কাঠের Standard Moisture Content হচ্ছে ১৪% এর নিচে। 

দরজা তৈরির ক্ষেত্রে precise machining দরজাটিকে মজবুত করে থাকে। আঠা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাপ থাকে যা আঠা দিয়ে পূরন হয় এবং শক্ত বন্ডিং তৈরি করে। Tenoning, Mortising এবং নিখুঁত Parel cutter দরজা মজবুতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী মেশিন তবে বাজারে কেনা মেশিন দ্বারা মান এতো নিখুঁত রাখা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের এমডি স্যার জেনে-শুনে এবং বুঝেই মেশিনগুলো নিজ হাতে তৈরে করেছেন সবার আগে। যেগুলা কাস্টমারের দেখা অতি জরুরী।  

Brick Wall সাধারণত চৌকাঠের সাইজের চেয়ে ১বেশি চওড়া রাখা হয়। উচ্চতার ক্ষেত্রেও ১বেশি রাখা হয়। যেমনঃ একটি ৩৬বাই ৭ ফুট চৌকাঠের ক্ষেত্রে Brick Wall এর Opening হবে ৩৭” X ৭ ফুট ১ 

চৌকাঠের জন্য সবচেয়ে ভালো কাঠ হচ্ছে চিটাগাং শিলকড়ই। এ কাঠের সুবিধাগুলো হচ্ছে, এ কাঠ সঠিকভাবে সিজন করলে বাঁকা হওয়া, ফেটে যাওয়া, পচে যাওয়া, পোকা ধরা ইত্যাদি সমস্যাগুলো হয়না। এবং তুলনামূলকভাবে দাম কম। 

তবে এ কাঠের অসুবিধা হচ্ছে, এ কাঠের পলের রং সাদা হয় কিছুদিন পর খসে পড়ে যায়। এর রং কিছুটা গাড় লালচে-খয়েরী রঙয়ের হয়। যা বার্মাটিক বা চিটাগাং টিক এর সাথে কিছুটা মিলে, এছাড়া অন্য কোনো কাঠের সাথে মিলে না। 

বার্মাটিক কাঠ, চৌকাঠের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো ও দামি। মেইন গেটের ক্ষেত্রে সাধারণত সবাই চেষ্টা করে বার্মাটিকের চৌকাঠের সাথে পাল্লা মিলিয়ে নিতে। এগুলো দেখতে অনেক সুন্দর হয়। বার্মাটিক চৌকাঠ ও পাল্লার ক্ষেত্রে অনেক চওড়া কাঠ সংগ্রহ করা সম্ভব। ১১” X চৌকাঠ সহজেই সংগ্রহ করা সম্ভব।

তবে এ কাঠের অসুবিধা হচ্ছে, এ কাঠের দাম অনেক বেশি। অনেক আসাধু ব্যবসায়ী বার্মাটিকের সঙ্গে অন্য কাঠ মিশিয়ে দিতে পারে। 

চিটাগাং সেগুন এখন সাধারনত খুব ভালো মানের পাওয়া যায় না। তবে তুলনামূলকভাবে এ কাঠের দাম বার্মাটিকের চেয়ে একটু সস্তা। তবে ১০এর উপরে কাঠ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন। ১১” X চৌকাঠ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এই কাঠে কিছুটা পল থাকে। কমপক্ষে ১০% পল থাকতে পারে। তবে এ কাঠের পলে সহসা পোকা ধরে না। 

যশোর মেহগনির মেচিউর কাঠ চৌকাঠের জন্য অত্যন্ত ভালো। আমরা সাধারণত কম মোটা গাছ থেকে চৌকাঠের কাঠ সংগ্রহ করে থাকি। এ গাছগুলোর ঘনত্ব এবং সিজন করার পর ওজন তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, বাঁকা হবার প্রবণতা কম থাকে এবং পোকা ধরে না। এছাড়াও আমরা কেমিক্যাল ট্রিট্ম্যান্ট করে থাকি। এ চৌকাঠ দামের দিক দিয়েও অনেক সুলভ।

আমরা সাধারণত চৌকাঠর বাম পাশের রাবিট থেকে ডান পাশের রাবিট পর্যন্ত ৩ স্থানে মাপ নিয়ে থাকি। উপরে, মাঝে ও নিচে, এই তিনটি স্থান থেকে মেপে নেয়ার পর। সবচেয়ে বেশি মাপটিকেই আমরা সঠিক মাপ হিসেবে প্রস্থের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিয়ে থাকি। চৌকাঠের উপরের মাথার রাবিট থেকে ফ্লোর টাইলস পর্যন্ত উচ্চতার মাপকে আমরা দরজার দৈর্ঘ্য হিসেবে মাপ ধরে নিব। টাইলস লাগানো না থাকলে, চৌকাঠের উপরের অংশের রাবিট থেকে ফ্লোরের মাপ ৮২”-৮৩হলেও আমরা ৮২হিসেবে ধরে নেব।

সলিড কাঠের চৌকাঠ বা পাল্লা বানানোর আগে এবং পরে আমরা সব কিছু করে থাকি  যাতে করে পাল্লা বা চৌকাঠ বাঁকা, ফাঁকা ও পোকা না ধরে। এর পরেও ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে, যদিও আমাদের সমস্যা একেবারেই কম হয়। যেমন ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ছিটকিনি না লাগা, দরজা লাগানোর সময় শব্দ করা। এ রকম ঘটনা ২-১ টি দরজার ক্ষেত্রে ২-১ ঋতুতে হতে পারে। আমরা এগুলো আমাদের খরচে মেরামত করে থাকি। আমাদের এই সার্ভিসের সময়সীমা ২৫ বছর।

আমরা চৌকাঠ ও পাল্লা তৈরির পর পলিশ সহ অথবা পলিস ছাড়া কাস্টমারের খরচে ডেলিভারি করে থাকি। তালা, কবজা, হ্যাসবোল্ট ইত্যাদি ফিটিং করে থাকি। এর ব্যায়ভার কাস্টমার বহন করে থাকেন।

আমাদের ফ্যাক্টরি সিঙ্গাইর এর জয় মন্ডবে অবস্থিত। ফ্যাক্টরিতে ৪ টি ফ্লোর রয়েছে এবং প্রতিটি ফ্লোরে ২১,০০০ স্কয়ার ফিট করে স্পেস রয়েছে। সমগ্র ফ্যাক্টরিতে মোট ৮৪,০০০ স্কয়ার ফিট স্পেস রয়েছে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে মেশিন রুম, কাঠ স্টোরেজ ও ৪ টি সিজনিং চেম্বার রয়েছে। অন্যান্য ফ্লোরে আমাদের পলিশ, ফিটিং, ডিজাইন ও অন্যান্য কাজ করা হয়ে থাকে।

আমাদের ফ্যাক্টরির সকল মেশিন আমাদের এমডি স্যার এর নিজের ডিজাইন ও তৈরি করা। যা একেবারেই ইউনিক। তিনি উড টেকনোলোজির উপরে একজন বিশেষজ্ঞ। দরজা ও চৌকাঠের মান উন্নত করার লক্ষে তিনি নিজের হাতে ২৫ টি মেশিন ডিজাইন করেছেন ও বানিয়েছেন। যেগুলো দেখলেই শুধু অনুধাবন করা সম্ভব। 

আমরা সবসময় সবচেয়ে ভালো এলাকার মেচিউর কাঠ ব্যবহার করি, সেগুলোকে সঠিকভাবে Kiln dry চেম্বারে সিজন করি, যাতে Moisture Content সবসময় ১৪% এর নিচে থাকে এবং সঠিকভাবে কেমিক্যাল ট্রিট্ম্যান্ট করে থাকি, যাতে করে কোনভাবে পোকা ধরার কোনো সম্ভবনা না থাকে। আমাদের মেশিনগুলো এমডি স্যার এমনভাবে তৈরি করেছেন যাতে করে ২টি কাজ সঠিক হয়। নিখুঁত ও মজবুত পাল্লা ও চৌকাঠ এবং অনেক প্রোডাকশন কেপাসিটি। 

ক্রেতা সাধারন সাধারণত কাঠ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখেন না। অনেক কাঠ ব্যবসায়ী এই সুজোগ নিয়ে তাদেরকে খারাপ এলাকার ইমমেচিউর কাঠ দিতে পারে। কিন্তু আমরা কখনোই তা করি না।

সাধারণত পাল্লার থিকনেস স্ট্যান্ডার্ড (পাকা)   হয়ে থাকে। দরজা চওড়া কম বেশি হলে দাম কম বেশি হয়। তবে উচ্চতা কম বেশি হলেও ৮২এর উপরে না হলে উচ্চতার কারণে দাম বাড়ে না। মডেল পরিবর্তন হলে বিভিন্ন মডেলের জন্য দামের কম বেশি হতে পারে। মডেলের পরিবর্তনের কারণে কাঠ অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে, মজুরি খরচ বেশি হতে পারে। নকশা থাকলে সেক্ষেত্রেও খরচ বাড়তে পারে। সেজন্য দরজার মূল্য কম বেশি হয় সাধারণত ২ টি কারণে, দরজার সাইজ ও মডেল।

উপরে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলে

আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন

TOP
হোয়াটসঅ্যাপ
ফোন করুন
ম্যাপ দেখুন
-