01

কাঠগুলোকে আমরা দরজা তৈরির উপযোগী করে নেই

প্রথমত আমরা গোলাইগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী সেকশন দিয়ে থাকি, যেমন ধরুনঃ চৌকাঠের জন্য আমরা ৭ ফুট, দরজার বাজুর জন্যও ৭ ফুট সেকশন দিয়ে থাকি। এই কাজগুলি করার জন্য যথেষ্ট অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। এর পরে আমরা সেকশন দেওয়া কাঠগুলিকে স-মিলে চেরাই করে দরজা বা চৌকাঠ তৈরির কাঠগুলকে প্রস্তুত করে থাকি।

কাঠ চেরাই করার সময় আমরা পুরুত্ত এবং চওড়া একটু বেশি নিয়ে থাকি যাতে করে সিজনিং করার সময় যতটুকু কমবে এবং সাইজ করার সময় যতটুকু কমবে, সেটা সহ চেরাইের হিসাবটা করা হয়।

02

সিজনিং

Kiln-Dry-Chamber এ আমরা কাঠগুলিকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ সিদ্ধ করে ময়েশ্চার ১৪% এ কমিয়ে নিয়ে আসা হয়, যা আমাদের দেশের জন্য আদর্শ ময়েশ্চার কন্টেন্ট। এভাবে সিজন করা কাঠ দিয়ে দরজা, চৌকাঠ এবং ফার্নিচার বানালে তা বাঁকা-বুকা বা ফাঁক-ফুকুর হয়না। এর পরে আমরা দরজা বা চৌকাঠ বানিয়ে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করে থাকি, এতে করে পোকা ধরার আর কোন রকম সম্ভাবনাই থাকেনা। এর পরে আমরা বিভিন্ন মেশিনে পাল্লাগুলির অংশবিশেষ তৈরি করে ফেভিকল আঠা এবং কাঠের খিল দিয়ে দরজাগুলো মজবুত করে আসেম্বল করে থাকি।
03

দরজা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহ্রিত মেশিনসমূহ ও তাদের কাজ

ফোর সাইড প্লেনার:

ফোর সাইড প্লেনার আমাদের প্রথম মেশিন যেখানে একবারেই কাঠের দুই সাইড জয়েনটার করা হয় এবং অন্য দুই সাইড থিকনেস করা হয়। ৭ ফুট একটা কাঠ সাইজ করতে এই মেশিনের সময় লাগে মাত্র ৩০ সেকেন্ড। একটা চৌকাঠের কাঠ সাইজ করতে আমাদের মোট সময় লাগে ১.৫ মিনিট। একটা পাল্লার কাঠ সাইজ করতে মোট সময় লাগে ২ মিনিট। নিচে আমরা এই মেশিনগুলোর ভিডিও করে একটা দরজা ও চৌকাঠ বানানোর পুরো প্রক্রিয়াটি দেখাবো।

ট্রলি কাটারঃ

বিশেষভাবে তৈরি করা এই মেশিনে চৌকাঠের মাথাগুলি ৪৫ ডিগ্রি এঙ্গেলে কাটা হয়। ৭ ফুট লম্বা চৌকাঠের মাথাগুলিও সমান করে নেওয়া হয়। একটি দরজার সব কাঠগুলি ৯০ ডিগ্রি এঙ্গেলে কাটা হয়। এই মেশিনে সার্কুলার ব্লেডটি থাকে স্থির। একটি স্লাইডিং টেবিলের উপর কাঠটি ফিক্স করা থাকে, ধাক্কা দিলেই কাঠটি মুহূর্তের মধ্যেই কেটে যায়। এই মেশিনে দরজার কাঠগুলি নিখুঁতভাবে চেরাইও করা যায়। একটা দরজার মোট কাঠ সাইজ করতে সময় লাগে ২-৩ মিনিট।

অটো টেনোনিংঃ

আমাদের অটো টেনোনিং মেশিনটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিখুঁতভাবে রিভার্স বিট কেটে নিখুঁতভাবে একটা আল তৈরি করে দিবে। প্রথমত কাঠটিকে একটা ট্রলি টেবিলে ফিক্স করে একটু ধাক্কা দিলেই আলটি তৈরি হয়। এই কাজটাই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এতো সহজে করতে পারেনা। একটি দরজা তৈরি করতে যতগুলি আল তৈরি করতে হয়, তাতে এভারেজ সময় লাগে ১৫-২০ মিনিট। এই মেশিনটি বাংলাদেশে একমাত্র মেশিন।

অটো বিট কাটারঃ

কাঠটি ডুয়াল ফিটিং ( টপ এন্ড বোটম ) এর উপর রেখে দিলেই মেশিনটি অটোমেটিক কাঠটাকে টেনে নিয়ে ট্রিপল কাটারের ভেতর দিয়ে কাঠটিকে সিঙ্গেল পাসেই কাঠের উপরে এবং নিচে বিটটি তৈরি করে দেয় মাঝখানে প্যানেল ঢুকানোর একটি বিট কেটে। একটি দরজায় যতগুলো বিট কাটতে হয়, তার সবগুলোই ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই হয়ে যায়। মেশিনটি খুব বেশি বড় নয়, কাজ করে খুব দ্রুত। এক মিনিটে দুইটি বাজুর একপাশে উপরে নিচে দুইটি ডিজাইন বিট কেটে দিবে এবং মাঝখানে প্যানেলের জন্য ৭ মিলিমিটার চওড়া এবং ৪.৫ সুতা গভির একটি গ্রূপ কেটে দিবে। এই গ্রূপটির মধ্যেই প্যানেলটি ঢুকে যায়।

অটো ডুয়াল প্যানেল কাটারঃ

এই মেশিনটিও ঠিক টপ এবং বটোম পাওয়ারফুল ফিডার দ্বারা সমৃদ্ধ। একটা দরজার প্যানেলের উপর এবং নিচ একসাথে কাটতে অনেক ফিডিং শক্তির প্রয়োজন হয়। এই মেশিনের টপ এন্ড বটোম ফিডারে তার চেয়েও বেশি শক্তি দেওয়া আছে। একসঙ্গে টপ এবং বটোম ফিডার কাটার জন্য প্যানেলের আলের পুরুত্তের কোথাও কোন কম বেশি হয়না। সব জায়গায় একই থাকে, যা বিট কাটারের গ্রুভে সঠিকভাবে মিলে যায়। আলের পুরুত্ত ১.৫ ইঞ্চি পর্যন্ত একই থাকার কারনে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ডিপটি যতটুকু বেরিয়ে আসে বা ঢুকে যায়, এতে প্যানেল কোনভাবেই ঢিলা হয়না, এ কারনেই যেকোনো আবহাওয়ায় আমাদের দরজা থাকে মজবুত এবং সুন্দর।
04

ডোর ফিটিং ডিভাইস

বিভিন্ন মেশিনের সহযোগিতায় তৈরি দরজার পার্টস সমূহ, যেমনঃ রেইল, স্টাইল, সাব রেইল, সাব স্টাইল এবং প্যানেলগুলো দরজার ডিজাইন অনুযায়ী সাজানো হয় এবং আমাদের হ্যান্ড টাইটিং থ্রেড প্রেসারের মাধ্যমে দরজার অংশগুলিকে ফেভিকল আঠা নির্দিষ্ট জায়গায় ব্যবহার করে কাঠের তৈরি খিল দিয়ে দরজাটিকে ফিক্স করা হয়। এরপর আঠা শুঁকায় গেলে দরজাটিকে পরবর্তী মেশিনে নেওয়া হয়।

অসিলেটিং ডাবল ড্রাম সেন্ডারঃ

আমাদের ৬০ ইঞ্চি চওড়া অসিলেটিং ডাবল ড্রাম সেন্ডারের সঙ্গে সাধারন ড্রাম সেন্ডারের পার্থক্য হচ্ছে, সাধারণ ড্রাম সেন্ডারে অল্পক্ষণ ব্যবহারের পরেই শিরিষ কাগজ পুরে যায় এবং কাঠের উপর সুক্ষ কিছু দাগ রেখে যায়। আমাদের আবিষ্কৃত ৬০ ইঞ্চি অসিলেটিং ডাবল ড্রাম সেন্ডারে কাগজ কখনোই পুরেনা এবং কাঠের মধ্যে কোন দাগ ফেলেনা। এই মেশিন থেকে দরজার এক সাইড ফিনিশিং হওয়ার পর পরবর্তী মেশিনে বাকি কাজ করা হয়।

ব্যাক টু ব্যাক আব্রেসিভ রোটারি ব্রাশ সেন্ডারঃ

অসিলেটিং ড্রাম সেন্ডারটি ব্যাক টু ব্যাক আব্রেসিভ ব্রাশ সেন্ডারের পূর্বেই ফিটিং করা থাকে। অসিলেটিং ড্রাম সেন্ডার থেকে দরজাটি সারফেস হয়ে সরাসরি ব্যাক টু ব্যাক আব্রেসিভ রোটারি ব্রাশ সেন্ডারে ঢুকে যায় এবং এখানে আঙ্গুলের মত চোখা অনেকগুলি শিরিষ কাগজ দরজাটির ফুল এবং ডিজাইন সহ নিখুঁতভাবে ঘষে আস্তর মারার উপযোগী করে দেয়। দ্বিতীয়বার দরজাটিকে উল্টিয়ে একই প্রক্রিয়ায় ফিনিশিং করা হয়। পরবর্তী ধাপে আমরা দরজাটাকে আস্তর দিয়ে পলিশ করে থাকি।
05

দরজা তৈরির ভিডিও চিত্র

TOP