পাল্লার জন্য ব্যাবহৃত কাঠের সঙ্গে পরিচিতি

Wood World Bd. | CD-32 | Best quality wooden door produced with highest quality timber. We located in Bangladesh Dhaka.

যশোর মেহগিনী - পলিশ ছাড়াঃ

আমাদের জানামতে যশোরের মেহগনী আমাদের অন্যান্য এলাকার মেহগনীর চেয়ে উন্নত। অন্যান্য এলাকার মেহগনী কাঠে সাধারণত গুছানো ফাইবার বা আঁশ থাকেনা, রঙ ফ্যাঁকাসে হয়, সাঁর এবং পলের মধ্যে রঙ এবং গুনগত মানের অনেক পার্থক্য হয় এবং পরিপক্বতা আসতে অনেক সময় লেগে যায়। অপরিকল্পিতভাবে রোপণ করা গাছগুলির গোরা অনেক মোটা হয় এবং আগা চিকন হয়, এতে কাঠের গুনগত মানও খারাপ হয় এবং উৎপাদন ও কম আসে।
যশোরের মেহগনীগুলো পরিকল্পিতভাবে রোপণ করা হয়। যেহেতু এই এলাকার কাঠের গুনগত মান ভালো হয়, কৃষকরা সেই কারনে দামও ভালো পায়, আর তাই তারা রবিশস্যের মত পরিকল্পিতভাবে রোপণ করেন এবং যত্ন নিয়ে থাকেন। অধিকাংশ সময়ই পরিপক্বতা না আসা পর্যন্ত তারা গাছগুলি কাটেনা।
যশোর মেহগনী কাঠের সাঁর এবং পলের মধ্যে তেমন একটা রঙ্গের এবং গুনগত মানের পার্থক্য হয়না, ঠিক অনেকটা গামারি কাঠের মত। গামারি কাঠের যেমন পুরোটাই সাদা, সাঁর এবং পলের মধ্যে কোন পার্থক্য বুঝা যায়না, তদ্রুপ যশোরের মেহগিনী পরিপক্ক হলে সাঁর এবং পলের রঙ এবং গুনগত মানের কোন পার্থক্য থাকেনা। এই এলাকার মেহগনী পরিপক্ক হতে মাটির কারণে সময়ও কম লাগে। যেহেতু গাছগুলি পরিকল্পিতভাবে রোপণ করা, সেই কারনে গাছগুলি অনেক লম্বা হয়, ফাইবারগুলো সোজা হয়, গোরা এবং আগার মধ্যে সাইজের তেমন একটা পার্থক্য থাকেনা, আর তাই উৎপাদন অনেক বেশি হয়ে থাকে। সমস্যা একটাই, দাম একটু তুলনামুলকভাবে বেশি।

মেহগিনী চৌকাঠ লাগানোর আগে বিটোমেন ও পলিশ অবশ্যই করতে হবে।

চিটাগাং গামারিঃ

চিটাগাং গামারি একটু ঘিয়া রঙ্গের কাঠ। চিটাগাং এলাকায় জন্মায় বলে এই কাঠকে মানুষ চিটাগাং গামারি বলে থাকে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গামারি জন্মায়, তবে চিটাগাং গামারির মত এত উন্নত হয়না। বিদেশ থেকেও গামারি আমদানি হয়, কিন্তু তাদের মান আমাদের চিটাগাং গামারির মত নয়, সেগুলো ওজনে অনেক হাল্কা, টেকসই অনেক কম এবং খুবই নরম কাঠ। চিটাগাং গামারির বাঁকা হওয়ার প্রবনতা অনেক কম। এটার মধ্যে ময়েশ্চার অনেক বেশি থাকে। সিজন করতেও নরমাল কাঠের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগে। ঠিকভাবে সিজন না হলে এই কাঠের দরজা ফাঁক হবেই। এই কাঠে কখনই পোকা ধরেনা। অন্যান্য কাঠের তুলনায় এটা একটু হাল্কা, যেহেতু এই কাঠটা একটু হাল্কা সেজন্য এই কাঠ দিয়ে আমরা ভিতরের দরজাগুল বানানোর পরামর্শ দেই এবং তা চমৎকার হয়। উল্লেখ্য যে, চিটাগাং গামারির চৌকাঠ হয়না।
এই কাঠের একটাই সমস্যা, এটাতে পোকা খাওয়া থাকে, যাকে আমরা করাই কাটা বলে থাকি। দরজা বানানোর শেষে পোকা খাওয়া জায়গাগুলো ডাস্ট ও সুপার-গ্লূ দিয়ে নিখুঁতভাবে রিপেয়ার করে থাকি। এই কাঠের দাম যশোরের মেহগিনীর চেয়ে একটু বেশি।

টিক চাম্বুলঃ

টিক চাম্বুল আসে বার্মা থেকে। আমাদের দেশেও টিক চাম্বুল হয় তবে চিটাগং এর টা অনেক ভালো হয়। এখন মার্কেটে চিটাগং টিক চাম্বুল সহজলভ্য নয়। বার্মার টিক চাম্বুল দেখতে অনেক সুন্দর, সিজন করলে চৌকাঠের জন্য অনেক ভালো। দরজা তৈরি করতে গেলে সিজন করার পরেও কিছুটা সমস্যা হয়, অনেক সময় একটু বেঁকেও যায়, বারা-কমা অনেক বেশি হয়। ভিতরের দরজাগুলোতে সমস্যা কম হয়। কিছু কিছু মডেল আছে, সেগুলোতে সমস্যা খুব কম হয়। সেজন্য টিক চাম্বুলের পাল্লা বানানোর আগে আমরা চাই এ ব্যাপারে কাস্টোমারকে সঠিক পরামর্শ দিতে।
টিক চাম্বুল কাঠে আরোও একটি সমস্যা থাকে। দরজা তৈরির আগে এবং পরে কিছু কিছু কাঠ আস্তে আস্তে ডার্ক রঙ হয়ে যায়, দেখতে একটু অসুন্দর লাগে, চৌকাঠের ক্ষেত্রেও রঙ্গের পরিবর্তন হয়, কিছুদিন পর আর চোখে লাগেনা। আমরা বার্মা টিকের পাল্লায় অনেক সময় টিক চাম্বুলের চৌকাঠ লাগিয়ে থাকি, দেখতে অনেকটা কাছাকাছি, দামেও একটু সস্তা, তাই।
অবশ্যই অবশ্যই পলিশ এবং বিটোমেন দিয়েই লাগাতে হবে, তা না হলে কিউরিং করার পর সাতরঙ্গা হয়ে যাবে। এক অংশ দেখতে মনে হবে বার্মা টিক, এক অংশ টিক চাম্বুল ও খানিকটা শিলকরাইএর মত কালো হতে পারে। যা ঘটে তাই তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।

চিটাগাং সেগুনঃ

চিটাগাং সেগুন চিটাগাং এই হয়। এই সেগুনের মান অনেক উন্নত, ফাইবারও অনেক সুন্দর, কিন্তু বিভিন্ন কারনে বড় গাছগুলো আর কোনভাবেই কাটা হয়না। ছোট ও মাঝারী গাছগুলোই মার্কেটে পাওয়া যায়, যে কাঠগুলোর গুনগত মান খুব ভালো হয়না। আমরা অনেক চেষ্টা করেও পলমুক্ত করতে পারিনা। আমাদের সংগ্রহ করা চিটাগাং সেগুনেও ১-২% পল থাকে। অন্যান্য জায়গায় ৩০% পর্যন্ত পল থাকে।
চিটাগাং সেগুনের পলে পোকা ধরেনা, কিন্তু যতই রঙ দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করি, বুঝা যায় এবং দেখতে খারাপ লাগে। কাস্টমারের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলে আমরা তাদেরকে বার্মাটিক ব্যাবহার করার পরামর্শ দেই।
পলিশ এবং বিটোমেন ছাড়া কোনভাবেই লাগানো উচিত নয়। না হলে কিউরিং করার সময় পল অংশ কালচে হয়ে যায় এবং সারি অংশের রঙ নষ্ট হয়ে যায়।

বার্মার সেগুন ( বার্মা টিক )

এই কাঠটি বার্মা থেকে ইম্পোরট/import করা হয়। বিভিন্ন গ্রেডের হয়ে থাকে, যেমনঃ A, B, C, D গ্রেড। আমাদের দেশে সাধারণত A গ্রেডের কাঠগুলো আসেনা। সেগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন ধনী দেশে রপ্তানি হয়। আমাদের দেশে আসে B, C ও D গ্রেডের কাঠ। B গ্রেডের কাঠগুলোও অনেক সুন্দর, যা A গ্রেডের কাঠের চেয়ে একটু ডার্ক, এতে কালচে রঙ্গের কিছু লম্বা ফাইবার দেখা যায়। আমরা সরাসরি ইম্পোরট বা ট্রাক ভর্তি করে চিটাগাং থেকে কাঠ ক্রয় করতে পারিনা। যেহেতু আমরা সুধু B গ্রেডের কাঠই সংগ্রহ করে থাকি, তাই আমাদের একজন মিডেল ম্যান এর উপর নির্ভর করতে হয়। সে বিভিন্ন স-মিল থেকে আমাদেরকে সুধু B গ্রেডের কাঠ সংগ্রহ করে দেয়।
বার্মা টিক অনেক সুন্দর কাঠ। আমাদের দেশে এটা সবথেকে ভালো কাঠ বলতে পারেন। অধিকাংশ বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকদের সখ থাকে পুরো বাড়িতে বার্মা টিকের পাল্লা ও চৌকাঠ লাগানোর। সাদ্ধে না কুলালে কমপক্ষে মেইন গেইট টা বার্মা টিকের লাগাতে চেষ্টা করে। বার্মা টিকের দরজা মেইন গেইটে লাগালে বাড়ির মান বেড়ে যায়।
We collect the highest quality timber from best vendors in bangladesh to produce the highest quality door and frame for the satisfaction of our customers.
TOP
হোয়াটসঅ্যাপ
ফোন করুন
ম্যাপ দেখুন
-